এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০

প্রিয় নেতা আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৭-২০ ০১:২০:০৫

ফয়সাল বাপ্পি:

ঘুমাতে যান রাত দুইটায়। ভোর চারটায় উঠেন ঘুম থেকে। তাহাজ্জতের নামাজ শেষে ফজরের নামাজ, তারপর কোরআন তেলাওয়াত। এসবে ঘড়ির কাঁটা ছয়টার ঘর অতিক্রম করে। তারপর ৬টা থেকে ৮টা নিয়ম করে প্রায় দুইঘণ্টা ঘুমান তিনি। ওয়াশরুম, গোসল, নাশতা সেরে সোজা ড্রইয়িং রুমে, যেখানে দর্শনার্থীদের অপেক্ষা। একঘণ্টা তাদের সময় দেন, শোনেন তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। এভাবে দিনের শুরুতে ঘণ্টারও বেশি সময় জনমানুষের সঙ্গে কাটিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। ঘড়ির কাঁটা ১০টার ঘর ছুঁলেই প্রস্তুত পুলিশের প্রটোকল, সহকর্মীরা।
দশটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কোনোদিন নগর ভবনে, কখনো সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ছুটে যান তিনি। সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, খেলাধূলা, সরকারি অনুষ্ঠান ইত্যাদি কাজের চাপে প্রায়শ দুপুরের খাবারটাও খেতে ভুলে যান। এরমাঝেই রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কাজ সারতে হয় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। সেজন্য অফিস থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাত্রাপথে যেটুকু সময় পান তাতেই প্রয়োজনীয় ফোনালাপ সারেন। নতুবা দাপ্তরিক ফাইল দেখেন, স্বাক্ষর করেন। এভাবে শুরু হওয়া দিনের কর্মযজ্ঞ শেষ হতে হতে বেজে যায় রাত দেড়টা-দুইটা। এটিই চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের দৈনন্দিন কর্মসূচি।
একজন মানুষ কীভাবে এতো চাপ নিতে পারে? কীভাবে সামলান এতো ব্যস্ততা? জানতে চাইলে মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই অন্য দশজন মানুষের জন্য যেরকম ২৪ ঘণ্টায় দিন, সাত দিনে সপ্তাহ আর ত্রিশ দিনে মাস- আমার বেলায়ও তাই। কিন্তু আমার সামাজিক, রাজনৈতিক ও সিটি কর্পোরেশনের সব কাজের যে চাপ সে জন্য আসলে আমি দম ফেলার সময় পাই না। এরপরও কাজতো চালিয়ে যেতে হবে। সেজন্য যখন যতটুকু সময় পাই, সেই সময়টুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। হোক সেটা অফিস, বাড়ি বা গাড়ি। জনগণ মেয়র হিসেবে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটাকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে নিয়েছি আমি। জনগণের সেবা করার চেয়ে বড় ও খুশির কাজ আর নেই। আর রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকেও আমি ইবাদতের মত নিয়েছি। তাই কষ্ট হলেও আমি নিজের সবটুকু দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি।’
দিনের শুরুটা কেমন করে হয় জানাতে গিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমি সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিতে প্রতিদিন প্রায় রাত ১২টার পর হয় বাসায় ফিরতে। এরপর বাসায়ও অনেকে সাক্ষাৎ করেতে আসেন। তাদেরও সময় দিতে হয় মধ্যরাতে। পরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রতিদিনিই প্রায় রাত দুইটা বাজে। এরপর ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ি, ফজরের নামাজ শেষে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতের চেষ্টা করি। এরপর ভোর ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ঘুমাই। ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে তৈরি হতে হতে বাসার ড্রয়িং রুমে নানা শ্রেণীপেশার মানুষের অপেক্ষার দীর্ঘলাইন।
সঙ্গতকারণেই তাদের সময় দিতে হয়। এসব করতে করতে ১০টা বাজলে পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুসারে বাসা থেকে বের হয়ে যাই। কখনো সিটি করপোরেশনের অফিসে দাপ্তরিক কাজ ও মিটিং এ অংশ নেই। আবার কখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকি। মোটকথা পুরোদিন কাজের উপর থাকি। অনেক সময় কাজের চাপে দুপুরের খাবার পর্যন্ত খাই না। রাতে বের হতে হয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য। এসব করতে করতে প্রতিদিন রাত ১২টার পর আবার বাসায় প্রবেশ করি। এভাবেই আমার দিনের সূচি যেন নির্ধারিত।’
একুশে পত্রিকার হাতে আসা মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এর গাড়িতে বসে ফাইলওয়ার্কের ছবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মেয়র বলেন, ‘আসলে অফিস থেকে বের হয়ে গাড়িতে বসে রাজস্ব শাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চোখ বুলিয়ে কিছু অফিস আদেশ করার ছিল সেটা সেরে নিয়েছি। শুধু আজ নয়, প্রায়সময় গাড়িতে বসে ফাইলওয়ার্ক করি, জরুরি ফোনালাপ সেরে সময়গুলো কাজে লাগাই। রাস্তাঘাটে চলার সময় সবদিকে খেয়াল রাখি। কোনো কিছু নজরে এলে তাও সমাধানের চেষ্টা করি।’
সম্প্রতি কক্সবাজার যাওয়ার সময় চকরিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে নিজ গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করেছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এর আগে নগরের গণি বেকারি মোড়েও দুর্ঘটনায় আহত এক স্কুলছাত্রীকে নিজের প্রটোকলের গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন মেয়র।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। এছাড়া বাংলাদেশের বৃহতম ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউনিট চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাবেক সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রয়াত হবার পর মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও মূলত পুরো নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচিতে সমানতালে অংশ নিতে হচ্ছে আ জ ম নাছিরকে। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সি.জ.কে.এস) সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বিভাগীয় ফুটবল অ্যসোসিয়শনের সভাপতির দায়িত্বসহ শত শত সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
তারপরও বিভিন্ন সমালোচকদের শকুনের চোখ আমার নেতার প্রতি।
কিছু হলেই মেয়রের দোষ, এ চিন্তাধারা থেকে ফেরৎ আসুন।
নইলে এর খেসারত আপনাদেরই দিতে হবে।

Print Friendly and PDF