এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০

আনোয়ারায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত বার আউলিয়া এলাকা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৬ ২১:২২:২৮



জাহাঙ্গীর আলম,আনোয়ারাঃ


আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগরে জোয়ারের পানি বেড়ে প্লাবিত হয়ে পড়ে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বারআউলিয়া এলাকা । সোমবার (৬ জুন) দুপুরে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে বেডিবাঁধের খোলা অংশ দিয়ে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এতে করে গ্রামের ৩ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয়রা বেডিবাঁধের নির্মাণ কাজের অনিয়মকেই দায়ী করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ,ভাঙন রোধে বসানো জিও ব্যাগ গুলো দুষ্কৃতকারীরা রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি। এসব এলাকার জন্য ৭ টি প্যাকেজে ১ শত ৫০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।


স্থানীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রায় ৪ শত কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বেডিবাঁধ নির্মাণে কাজে অনিয়মের কারণে রায়পুর ইউনিয়নের বারআউলিয়া এলাকায় প্রায় দুইশ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে স্থানীয় বারআউলিয়া জামে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, বসত ঘর ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হুমকীর মুখে পড়ে। বারআউলিয়া এলাকায় খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি উঠানামা করছে। সোমবার দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে বেডিবাঁধের খোলা অংশ পানি প্রবেশ করে ৮ নং ওয়ার্ড বার আউলিয়া এলাকার বাইন্না পাড়া,কবির মিয়ার বাড়ি,ইসমাইল মিয়াজির বাড়ি, সর্দার পাড়া,হাজি কেরামত আলী বাড়ি ও মাওলানা আমির হামজার বাড়ির প্রায় ৩ হাজার লোক পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জোয়ারের পানিতে রায়পুর ইউনিয়নের পরুয়াপাড়া বাতিঘর,গহিরা,ফকির হাট ও সরেঙ্গা যে সব অংশে পাথর নেই এসব এলাকার বিভিন্ন অংশের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ঐ এলাকায় জিও ব্যাগ বসিয়ে প্রোক্টেশন দেয়া না হলে যে কোন মুহুর্তে পুরো বাঁধ তলিয়ে যাবে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী শওকত হোসেন জানায়, দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে আমাদের বাড়ি ঘর ডুবে যায়, বাড়ির কারো পক্ষে রান্নাবান্না করা সম্ভব হয়নি।


রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, বারআউলিয়া এলাকার বেডিবাঁধের খোলা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে মানুষের ঘরবাড়ি, মসজিদ মাদ্রাসা, কবরস্থান ও দোকানপাট তলিয়ে যায়। এতে করে এলাকার অন্তত ৩ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে দূর্ভোগে পড়ে। এসব এলাকায় জিও ব্যাগ না দিলে মানুষের দূর্ভোগ আরো বাড়বে।




এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী চয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, আনোয়ারার বাতিঘর এলাকায় বেডিবাঁধের ভাঙন অংশে যেখানে জিও ব্যাগ বসানো হচ্ছে ঐ এলাকার জিও ব্যাগ গুলো রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতকারীরা কেটে পেলছে। এতে করে বেডিবাঁধের ভাঙন রোধ সম্ভব হচ্ছেনা। আনোয়ারার উপকূলের বেডিবাঁধের যে সব অংশে পাথর বসানো হয়নি ঐ সব এলাকায় শীঘ্রই পাথর বসানো হবে। এর জন্য নতুন করে ৭টি প্যাকেজে ১শত ৫০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

Print Friendly and PDF