এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

৮শ করোনা রোগীর মধ্যে সাড়ে ৪শ জন সুস্থ হয়েছেন

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৬ ১২:২৯:৫২



ডেস্ক রিপোর্ট:

 

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা প্রায় শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আর এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড সামলানোর দায়িত্বভার পড়েছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুর রবের হাতে। ঢাল তলোয়ারবিহীন হয়েও সম্মুখযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি দেখিয়েছেন বীরত্ব। বিষাদ আর তিক্ততার ১০০ দিন পরেও নাবিকের মতো হাল ধরে সফলতা পেয়েছেন এই চিকিৎসক।

ডা. আব্দুর রব বলেন, প্রথম যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন আমাদের কাছে কিছুই ছিল না। প্রথমদিকে রোগীদের আমরা এক রকম চিকিৎসা দিতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে আমাদের চিকিৎসার ধরণ পরিবর্তন হয়েছে।

ডা. আব্দুর রব আরো বলেন, আমাদের কোনও ভালো মানের পিপিই ছিল না, এন৯৫ মাস্ক ছিল না। কারও তেমন একটা প্রশিক্ষণ ছিল না। অনেক কিছুর সংকট ছিল। কিভাবে ট্রিটমেন্ট হবে তাও জানা ছিল না। আমরা কতটুকু কাজ করতে পারবো তা নিয়ে অনেকের মধ্যে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে প্রথমদিকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থাও ছিল না। বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৭০টি সিলিন্ডার রয়েছে। এসব সিলিন্ডার রিফিল করতে তখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন সেই সংকটও কেটে যাচ্ছে। এছাড়া ১০ শয্যার আইসিইউ হয়েছে হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনবলের সংকটও বর্তমানে কমে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এন-৯৫ মাস্ক এর সংকট রয়েছে। এছাড়া অন্য সবকিছু ঠিক রয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে আমাদের আর কোনও সমস্যা থাকবে না। তবে করোনা রোগীদের কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা থাকলে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যেতাম।



ডা. আব্দুর রব বলেন, যে স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে তা পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করা, ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করা, মাস্ক পরে বের হওয়া, বাহির থেকে ফিরে গরম পানি দিয়ে কাপড়-চোপড় ধুয়ে ফেলা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা জরুরি। এছাড়া কেউ আক্রান্ত হলে প্রথমে নিজেকে আইসোলেশনে রাখা উচিত। করোনা শনাক্তের পর বিভিন্ন টেস্ট করে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে জানা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর সঙ্গে অক্সিমিটার রাখা উচিত, যাতে সবসময় অক্সিজেন স্যাচুরেশন দেখা যায়।

বুক ভরা আশা নিয়ে ডা. আব্দুর রব বলেন, আমরা মোটামুটি সফল- সেটা অবশ্যই বলতে পারি। কারণ আমরা অনেক রোগীকে সুস্থ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১২২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সর্বমোট ৮০০ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে সাড়ে চারশ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৮০ জনের মতো।সূত্র: বাংলানিউজ

Print Friendly and PDF