এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

মহিষের উৎপাতে হুমকিতেস ন্দ্বীপের পশ্চিমে উপকূলীয় এলাকার অধিবাসীরা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৬-৩০ ১৯:২১:৩৮



এম এ হাশেম, সন্দ্বীপ :



শত শত মহিষের উৎপাতে অসহায় হয়ে পড়েছেন সন্দ্বীপের পশ্চিমে জেগে ওঠা চর সংলগ্ন রহমতপুর এলাকার অধিবাসীরা। এখানকার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন জেগে ওঠা চরে চষে বেড়ায় ২৫০ থেকে ৩০০ মহিষ। মহিষের উৎপাতের কারণে উড়ি (বিশেষ ধরণের ঘাস) এই চরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি গত দুই বছরে।
মহিষের কারণে স্থানীয় উপকূলে বসবাসরত লোকেরা তাদের গরু, ছাগল, ভেড়া চড়াতে হিমশিম খাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। গরু, ছাগল, ভেড়া চড়াতে গিয়ে স্থানীয়রা প্রভাবশালী মহিষের মালিকদের হাতে বারবার নিগৃহীত হচ্ছেন, এমনকি মারামারি হবারও উপক্রম হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়দের ভয় দেখানোর জন্য সন্দ্বীপ থানায় একটি জিডিও করেছেন মহিষ মালিকরা।


সন্দ্বীপ থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে সন্দ্বীপ থানার এসআই নজরুল ও মোশারফ ঘটনার সত্যতা জানতে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু এতদ সত্ত্বেও বিবদমান অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মশিউর রহমান বেলালের উপস্থিতিতে চরে গরু, ছাগল ও মহিষের মালিকদের নিয়ে এলাকায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। এতে উভয় পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও সমস্যার সমাধান মিলছে না। গরু, ছাগল মালিকদের কথা হচ্ছে, রহমতপুরের পশ্চিমে জেগে ওঠা চরে তাদের গরু,ছাগল গুলোই চষে বেড়াবে। যেহেতু এ এলাকায় কোন মহিষ নেই। কিন্তু সন্দ্বীপের পূর্বাঞ্চল থেকে রহমতপুর এলাকার গুটি কয়েক লোক প্রভাবশালী অন্য মালিকের শত শত মহিষ এনে পশ্চিমে জেগে ওঠা চরে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে প্রতিনিয়ত এলাকার গরু, ছাগল মালিকদের সাথে মহিষ পালকদের ঝগড়া বিভাদ লেগেই আছে এবং বিষয়টি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এক সময় সন্দ্বীপের পশ্চিমাঞ্চল নদী ভাঙ্গন কবলীত এলাকা ছিল। বিগত ৬/৭ বছর পূর্ব থেকে নদী ভাঙ্গন বন্ধ হয়ে হঠাৎ উপকূল জুড়ে নতুন চর জেগে ওঠে। মানুষ হয়ে ওঠে আশান্বিত। দিনে দিনে এই চরের স্থায়ীত্ব বাড়তে থাকে এবং জন্মাতে থাকে উড়ি ঘাস, যা পশু পালনকারীদের কাছে খুবই লোভনীয়। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই অতি সম্প্রতি মহিষ পালকেরা এই অঞ্চলটিকে তাদের মহিষ বিচরণের জন্য উপযুক্ত মনে করছে। ফলে দন্ধের শুরু এখানেই।


উপকূলীয় এই চরাঞ্চলটি জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে যায় এবং ভাটার সময় ভেসে ওঠে। উড়ি ঘাসের উচ্চতা এখন দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত হয়েছে। জোয়ার-ভাটায় ওই মধ্যেই শত শত মহিষ চরে বেড়ায়। ফলে উড়ি ঘাসগুলো অচিরেই শেষ হয়ে নতুন চরের মাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। যেহেতু বনবিভাগ এখনও পর্যন্ত এই নতুন চরে তাদের বনায়ন সৃজন কার্যক্রম শুরু করেনি। তাই এই নতুন চরটি যেন আরো ঝুঁকিতে না পরে সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী। তাদের দাবী নতুন চরকে নিরাপদে রাখতে কারো কোন গরু, ছাগল, মহিষ চড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে উড়ি ঘাস কেটে এনে নির্দিষ্ট এলাকায় রাখা প্রাণীদের খাওয়ানো যেতে পারে।

Print Friendly and PDF