এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

তিন অফিস ঘুরেও করা যায়নি জন্ম তারিখ সংশোধন

অনোয়ারায় জেএসসি’র রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে স্কুল ছাত্র দুর্জয়ের আত্মহত্যা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৬-৩০ ১৭:০৪:৪৮



আনোয়ারা প্রতিনিধি :


আনোয়ারায় তিন ধরে তিন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জন্ম তারিখ সংশোধন করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেচে নিলেন জেএসসি পরীক্ষার্থী দুর্জয় দাশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকালে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা জলদাশ পাড়া এলাকায়। দুর্জয় ওই এলাকার মিলন দাশের পুত্র। সে কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, দুর্জয় দাশ কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চললেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দুর্জয় বিষয়টা জেনেছে অনেক পরে। যখন জেনেছে তখন তার হাতে সময় আছে ৪ দিন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে জানতে পারে জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স তিন বছর বেশি। ফলে তার রেজিস্ট্রেশন হবেনা। এটা শোনার পর সে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। প্রথমে চাতরী ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রে যায়। সেখান থেকে তাকে বলা হয় স্কুল থেকে একটা প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে। দুর্জয় বাবা থেকে ৩ শত টাকা নিয়ে কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে ২ শত টাকায় যে প্রত্যয়ন পত্র নিয়েছে সেখানেও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দেয়া ১৮ ডিসেম্বও ২০০৩ সাল উল্লেখ থাকায় ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রে নতুন করে সংশোধন হবেনা বলে জানিয়ে দেয়। দুর্জয়ের পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন , ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্র থেকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে। এদিকে স্কুল থেকে জানানো হয় ৩০ জুনের পর রেজিস্ট্রেশন আর হবেনা। দুর্জয় দাশ এই অফিস থেকে ওই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এবং জেএসসির রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে ক্ষোভে,অভিমানে অবশেষে আত্নহত্যা করে।


দুর্জয়ের ছোট বোন পুষ্পদাশ জানায়, বিকালে আমি ভাইয়াকে খুঁজতে গিয়ে ঘরের সাথে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আমি দা দিয়ে রশি কেটে ভাইয়াকে কাটে শোয়ায়।
দুর্জয় দাশের পিতা মিলন দাশ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, গরীব হলেও বড় আশা ছিল ছেলেকে লেখাপড়া করানোর। আমরা অশিক্ষিত মানুষ জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে আমদের ধারণা নেই। বড় ছেলেটাকে অভাবের কারণে বেশি লেখাপড়া করাতে না পেরে গার্মেন্টসে চাকরী দিয়েছি। আমার ছেলের বয়স ১৩ বছরের বেশি নয়। কাগজে কি লিখল জানিনা। স্কুল থেকে বলেছে বয়স বেশি তাই ঠিক করতে না পারলে রেজিস্ট্রেশন হবেনা। আমার ছেলেটা বিভিন্ন অফিসে গিয়েও সোমবার বিকালে আমাকে জানাল সংশোধন করতে পারেনি এবং স্কুল থেকে বলেছে জেএসসি পরীক্ষাও দিতে পারবেনা । কিছুক্ষণ পর শুনলাম ছেলে আত্মহত্যা করেছে।
কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র দেবনাথ জানান, বয়সের ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা আছে। ওই শিক্ষার্থীর বয়স জন্ম নিবন্ধন ও পিএসসি সনদে বেশি হওয়ায় তাকে তা সংশোধন করে আনতে বলেছি। বেশি বয়সে কেন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করালেন এই প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান, তখন আমরা এটা খেয়াল করিনি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, কৈনপুরা এলাকায় স্কুল ছাত্র আত্মহত্যার বিষটি শুনেছি তবে এ ব্যাপারে থানা কোন অভিযোগ হয়নি।
দুর্জয় দাশরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই একটি গার্মেন্টে চাকরি করে। ছোট বোন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।


এদিকে আদরের সন্তান দুর্জয় দাশকে হারিয়ে তার বাবা মা পাগল প্রায়। মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখাযায় স্বজনরা তাদের শান্তনা দেয়ার চেষ্ঠা করেও ব্যার্থ হয়।

Print Friendly and PDF