এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০

করোনাভাইরাস: চাই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৩ ০৭:২৮:০৮

-বদরুল ইসলাম মাসুদ-

 

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় (কোভিড-১৯) সারাবিশ্ব কাবু, ৯১ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, চার লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশও কোভিড-১৯ এর ছোবলে চরম বিপর্যয়ে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে, আর মৃত্যু হয়েছে এক হাজার তিনশর বেশি মানুষ।

বিশ্বের ১৯৯টি দেশ এই করোনায় বিপর্যস্ত।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা সংকট, সমস্যা, দুর্নীতি ও জটিলতার কারণে করোনা পরিস্থিতিতে চিত্রটা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি দলের অনেক নেতা, বিরোধী দল, বৃহত্তর রাজনৈতিক দল-বিএনপি, বামজোট এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা সংকট-সমস্যার কথা বলেছেন, বলছেন।

তবে দেশে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা একটা অশনি সংকেতের মধ্যেই রয়েছি। ইতোমধ্যে ১৫টি জেলা, চট্টগ্রাম নগরীর (সিটি কর্পোরেশন) ১০টি ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের ১০ উপজেলা, বান্দরবানের চার উপজেলা রেডজোন ঘোষণা করেছে, এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলাদেশ এর আগে কখনও হয়নি, বিশ্বও হয়তো এমন চরম বিপর্যয়ে এর আগে পড়েনি।

বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যুদ্ধ করে, অনেক রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করেছে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও পরিস্থিতি সামলে উঠেছে, সেটাও আমাদের জানা।

কিন্তু অদৃশ্য ভাইরাস করোনা (কোভিড-১৯) এর কাছে আমরা এখন অনেকটা অসহায়-বিপর্যস্ত। নানা চেষ্টার পরও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, বিশ্বের বৃহৎ রাষ্ট্র, রাষ্ট্রনায়ক, জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অনেকেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি। আবিস্কারের পর্যায়ে, আবিস্কার হলেও সেটা সামগ্রিকভাবে বাজারজাত বা ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হয়নি।

বলা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়তো কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে এবং সেটা সারাবিশ্বে বাজারজাত হতে কয়েকবছর লাগবে। তাহলে আমরা ভ্যাকসিন এর যে আশা করছি, বাংলাদেশ হিসেবে সেটার প্রাপ্তিও অনেক সময়ের ব্যাপার।

এমন বাস্তবতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিও এইচ ও-হু), বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিড-১৯ থেকে বাঁচার/রক্ষার জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধির কথা বলছে, সেটা যথাযথভাবে পালন করলে হয়তো এ থেকে রক্ষার পথ সুগম হবে। এই করোনায় কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, মাস্ক, পিপিই-এসব শব্দের সাথেও আমাদের পরিচিত করেছে। আবার ‘লকডাউন’ শব্দটিও আমাদের জীবনে এখন পরিচিত শব্দ-বাক্য।

সরকার নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে করোনা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা ও উত্তোরণের। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাস্তবতার নিরিখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বেশ কঠিন। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে মানুষকে রাস্তায়-কলে-কারখানায়/প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োজিত হতে হচ্ছে, বাইরে যেতে হচ্ছে-আর এতে করে করোনার ছোবল ভয়াবহ হচ্ছে-এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে করোনা মোকাবেলার নানা সমস্যা চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তোরণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু দুঃখজনক হলে বাস্তবতা হলো এরই মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য মাস্ক কেলেঙ্কারী, পিপিই কেলেঙ্কারী প্রকাশ হয়ে পড়েছে। এমন বিপর্যস্ত ও কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা নিজেদের (কারো কারো) ব্যক্তিগত স্বার্থ/লাভ/লোভকে সামলাতে/নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এই কেলেঙ্কারীতে হয়তো কিছু মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে, কিন্তু করোনার ঝুঁকি যে মাত্রায় হবে-তার খেসারত হয়তো আমাদের (বাংলাদেশ) জন্য মারাত্মক হতে পারে।

এরই মধ্যে করোনা মোকাবেলার নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ গরম হয়ে উঠছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেও বিরূপ /নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারকে দায়ী করছে কেউ কেউ, কয়েকটি রাজনৈতিক দলও দোষ দিচ্ছে। আবার সরকারও এর পাল্টা জবাব দেবার চেষ্টা করছে, সরকার হিসেবে বৃহৎ রাজিৈনতক দল আওয়ামী লীগও নানাভাবে জবাব দেবার চেষ্টা করছে, কখনও কখনও।

গণমাধ্যমেও করোনা চিকিৎসার নানা চিত্র প্রকাশ হচ্ছে, এটা খুব বেশি সুখকর নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি)ও এসব নিয়ে বেশ সরগরম।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি আমাদের অনুধাবন করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা একে অন্যের দোষ ধরতে, অন্যের ভুল ধরতে চেষ্টা করছি, এতে হয়তো সাময়িক কিছু মজা/ফায়দা আসবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ/রক্ষা, প্রাণহানী. আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।

আমরা বিগত সময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি ঐক্যবদ্ধভাবে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, সব কিছুর উর্ধে উঠে দুর্যোগ মোকাবেলা করে সফল হয়েছি। সেই পরিস্থিতি, সেই ঐক্য-সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য (আমি বাংলাদেশ প্রেক্ষিত নিয়েই আলোচনাকে সীমাবদ্ধ রাখছি) অত্যন্ত অপরিহার্য।

এখন একে অন্যের দোষ, ত্রুটি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কি হয়েছে, কি হয়নি, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলার সময় এখন নয়।

এই মুহূর্তে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হবে, বাঁচাতে হবে।

এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক, এতে মানুষের তেমন হাত আছে এটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। অদৃশ্য ভাইরাস আমাদের জীবনকে চরম বিপর্যয়ে ফেলেছে, এ থেকে রক্ষার জন্যই এখন সবাইকে এক হতে হবে-একসাথে কাজ করতে হবে, মহান আল্লাহর উপর ভরসা রেখে পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে সকলের সম্মিলিত ঐক্য-প্রচেষ্টাই পারে আমাদেরকে এমন ভয়াবহ/মহামারি পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে।

রাজনৈতিকসহ নানা বিষয়ে মতের অমিলকে এখন সামনে না এনে, সব ভুলে, সব বিভেদ ভুলে, হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ রেখে, একই উচ্চারণে ‘করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে আমরা সবাই সুস্থ থাকবো, সবাইকে সুস্থ রাখবো, নিজে বাঁচবো, অন্যকে বাঁচাবো’-এমন সম্মিলিতি উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।

২৩ জুন ২০২০

Print Friendly and PDF