এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

পাহাড়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সুধাসিন্ধু খীসার পরলোক গমন 

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৬-১০ ১১:৫৮:৫৩



খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

পাহাড়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিক-ষাটের দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী মেধাবী ছাত্রনেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সুধাসিন্ধু খীসা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে খাগড়াছড়িস্থ সওজ বাসভবনে পরলোক গমন করেছেন।
তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক অসঙ্গতি নিয়ে নিজ বাসায় শয্যাশায়ী ছিলেন। পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগণের কাছে তিনি একজন সুবক্তা ও শিক্ষা-দীক্ষায় উঁচু মানের নেতা হিশেবে অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর মৃত্যুতে তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের মাঝে একটি শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সত্তরোর্ধ্ব এই নেতা মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

আজ (বুধবার) দুপুরে তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়িস্থ তাঁর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক শ্মশানে সৎকার করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র থাকাকালে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি’র নেতৃস্থানীয় একজন হয়ে উঠেন। প্রায়াত সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম. এন. লারমা)-র সাথে মিলে গঠন করেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। যেটি সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সত্তর দশক থেকেই ‘শান্তি বাহিনী’ নামে পরিচিত।

তিনি এই দুই সংগঠনেই এম. এন. লারমা’র প্রতিনিধিত্বশীল চার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি (শান্তিচুক্তি)’ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটির সাথে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সংলাপেই সুধাসিন্ধু খীসা অত্যন্ত গুরুত্বপর্ন অবদান রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

Print Friendly and PDF