বাংলাদেশ , শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০

এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলমের জানাজায় পাঁচ ভাইয়ের কেউ জানাজায় অংশগ্রহণ নিতে পারলেন না !

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৩ ০৪:৩৯:১৩




নিজস্ব প্রতিবেদক:

এস আলম গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোরশেদুল আলমকে মৃত্যুর তিন ঘন্টার মধ্যে রাতেই দাফন করা হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে। মোরশেদুল আলম সমাহিত হলেন পারিবারিক কবরস্থানেই চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে শনিবার ২৩ মে রাত দাফন সম্পন্ন হয় ৬২ বছর বয়সী মোরশেদুল আলমকে দাফন করা হয়। জানাজায় এস আলম পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মোজাহের আনোয়ার ও চেমন আরা বেগমের এই জ্যেষ্ঠ পুত্রের জানাজায় তার বাকি ছয় ভাইয়ের মধ্যে কেউই উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে মোরশেদুল আলমের দুই পুত্র মাহমুদুল আলম আকিব ও ফসিউল আলম, ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পিএস আকিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মেজ ভাই ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বর্তমানে পরিবারসহ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। অপর চার ভাই মোরশেদুল আলমের সঙ্গেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত ১৭ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবের পরীক্ষায় সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের এই সদস্যরা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। এই চার ভাই হলেন— এস আলম গ্রুপের পরিচালক ৬০ বছর বয়সী রাশেদুল আলম, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ৫৩ বছর বয়সী আবদুস সামাদ লাবু, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ৪৫ বছর বয়সী ওসমান গণি। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই পরিবারের ৩৬ বছর বয়সী এক নারীও। বর্তমানে তাদের সবাই চট্টগ্রাম নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে নিজ বাসভবনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মোরশেদুল আলম তার অন্য চার ভাইয়ের সঙ্গে নগরীর সুগন্ধার বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

সেখানে আইসিইউ ওয়ার্ডে আগে থেকেই এস আলম পরিবারের আরেক সদস্য রাশেদুল আলম চিকিৎসাধীন ছিলেন। জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের দশটি শয্যার সবকটিই পূর্ণ থাকায় সেখানে গুরুতর অসুস্থ মোরশেদুল আলমকে ভর্তি করা যাচ্ছিল না। তবে অপর ভাই রাশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার তুলনামূলক উন্নতি হওয়ায় তাকে আইসিইউ ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে সেখানে প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের বড় ভাই মোরশেদুল আলমকে ভর্তি করা হয়।

Print Friendly and PDF