এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৩৮.৫শ মেট্রিকটন চাল ও ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৫শ নগদ টাকা বরাদ্দ

সাংসদ দম্পত্তির আরাম আয়েশে গাঁ না ভাসিয়ে করোনা যুদ্ধে ব্যস্ত

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৬ ২১:৫৮:২৮



মামুনুর রশিদ: 
চট্টগ্রাম-১৫ সংসদীয় আসনের সাংসদ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও তাঁর পত্নী কেন্দ্রীয় মহিলা আ.লীগের সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরীর কর্মকাণ্ড দেখে স্থানিয় ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই দম্পতী অন্যদের মত আরাম আয়েশে গাঁ না ভাসিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার পূর্ব থেকে বাংলাদেশ সরকার যেমন গোটা দেশে করোনাভাইরাস বিরুদ্ধে যে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তারেই ধারাবাহিতায় চট্টগ্রাম-১৫ সাংসদ দম্পত্তি নিজ এলাকার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন। দেশের অধিকাংশ সাংসদ ও অনেক নেতার মত আরাম আয়েশি জীবনযাপন না করে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার প্রান্তিক এলাকা চষে বেড়িয়েছেন।

প্রতিটি ঘরে গিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। যেসব এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি সেসব এলাকায় টিম ভিত্তিক ওয়ার্কিং প্লান মোতাবেক করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধি, স্থানিয় সচেতনমহল, আ.লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনসহ সাতাকানিয়া-লোহাগাড়া নারী ফোরামের সদস্য বৃন্দ ও নিজেদের আত্বীয় স্বজন এবং স্ব উপজেলা প্রসাশন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ প্রশাসনদের সাথে নিয়ে ২৪ ঘন্ট কাজ করেন মাঠে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে ছিল, জনসচেতনতা সৃষ্টির লিফটলেট, মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবানসহ ইত্যাদি বিতরণ করেন। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং ও মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে পরিষ্কার পরিচ্ছনতা, সামাজিক দূরত্ব নিশচ্ছিত, গনজমায়েত পরিহার ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রথম দিকে আলোচনা এবং পরবর্তী মসজিদে নামাযে জামাত অল্প সংখ্যক মুসল্লি নামাজ পড়া এমনকি জুমার নামাজ আদায়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেন তা বাস্থবায়ন করেন। করোনার জন্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লে তাদের সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি আল্লামা ফজুলুল্লাহ ফাউন্ডেশন থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছেন সাতাকানিয়া-লোহাগাড়ায় রদ্রে রদ্রে। এছাড়া সকল ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় কর্মরত সকলের জন্য পিপিই প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম-১৫ সাংসদীয় আসনে আরো অনেক দায়িত্ববান লোক রয়েছ। তাদের মধ্যে অধিকাংশ দায়সারাভাব দেখিয়েছেন বলে অভিমত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সচেতন মহলের। সাতাকানিয়া ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম, মোঃ আবছার, জসিম উদ্দন ও লিটন বলেন, আমাদের(তাদের) সাংসদ দম্পতি প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গিয়ে শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করছেনা? প্রতিটি ঘরের চুলায় কি রান্ন হচ্ছে, তার খবর নিচ্ছে। এমন জনপ্রতিনিধি পাওয়া মানুষের ভাগ্যের ব্যাপার। দিউদিঘি এলাকার, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল হক ও মরিয়ম বেগম বলেন, আমাদের এই দুর্যোগ সময়ে এমপি নদভী তাঁর বউ যেভাবে খবর নিচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।তাঁদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন হাজার বছর হায়াত দান করে এবং এমপি থাকেন। লোহাগাড়ার পদুয়ার প্রাক্তন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ ইসলাম, তেওয়ারিখীল এলকার মুক্তি যুদ্ধার সন্তান মোঃ হেলাল উদ্দিন, যুবলীগ নেতা আদেল চৌধুরী, সোহেল ও মানিক বলেন, বাংলাদেশর অনেক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এখন জনগণেনর খবর না রেখে হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছেন। আর আমাদের এমপি ঘরে সরকারী ও নিজের উপহার সামগ্রীসহ বিত্তশালীদের উদ্ভূদ্ধ করিয়ে নিত্যপণ্য ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন। এই সাংসদ দম্পত্তির একটি কথা আপনারা ঘরে থাকুন বাকি দায়িত্ব আমাদের। উপরে আল্লাহ সহায় থাকলে, দেশের পরিস্থিতি যতদিন স্থিতিশীল হবেনা ততদিন কারো ঘরে খাদ্যের সংকট হবেনা। ইউপি সদস্য মোঃ সোলাইমান, কাউছার উদ্দিন ও সালাউদ্দিন সিকদার বলেন, আমাদের(তাদের) এমপি সাহেব ও তাঁর সহধর্মিণীর চৌকস নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সকল কার্যক্রম ও সরকারি ত্রাণ সঠিক বন্টন এবং আল্লামা ফজুলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিত্যপণ্য উপহার সামগ্রী আমাদের দিয়েছেন। যা সঠিক বন্টন করেছি। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ হানিফ বলেন, সাংসদ দম্পতী প্রতি মুহূর্তে খোঁজ খবর রাখছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা কতিপয়দের করোনা পরিক্ষা করার নির্দেশ দেন। যখন ফোন করি তখন সাড়া দেন এই দম্পতী।

পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫০০শ জনের ত্রাণ গ্রহণ করি। তা এমপি সাহেবের নির্দেশনায় সঠিকভাবে বন্টন করি। এমপি সাহেব নিজের তহবিল থেকেও বিভিন্ন সহযোগীতা দিয়েছেন ও দিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা দিয়েছেন। প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি একমাত্র এমপি সরকারের ত্রাণ তোয়াক্কা করেনা। জনগণের জন্য পাগল। শুধু খবর নেন তাঁর জনগণ কেমন আছে। আল্লাহপাক তাকে নেক হায়াত দান করুক। সাতাকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে মানবিক সহয়তায় ৮৪.৫ মেট্রিকটন জি আর বরাদ্দ পায় ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জন্য। এইগুলো আসার পর এমপির সাথে যাথে যোগাযোগ করি। উনি আমাদের উপদেষ্টা। তাঁর কনসার্ণ নিয়ে কাজ করি। খুবেই সহজ সরল এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন। আমাদের বেশ দিকনির্দেশনা দেন। লোহাগাড়া উপজেলা ইউএনও তৌছিফ আহমেদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পিআইও কর্মকর্তার জানেন বলে জানান এবং পিআইও এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার নির্বাহি ক্ষমতাধর অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই তথ্য না থাকায় হতভাগ করেছে প্রতিবেদককে।

পিআইও নাম্বর দিবেন বলেও দেনন নাই। স্থানিয় সাংসদ কেমন সম্বন্নয় করছেন জানতে চাইলে বলেন, এমপি যা সম্বন্নয় করার তা করছে। দেশে এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে তাকে খুব বিব্রত মন হয়েছে তাঁর সাথে আলাপকালে।
অবশেষে লোহাগাড়া পিআইও এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাতকানিয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে লোহাগাড়া অফিসের এক স্টাপের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থ করে দেন। এই সূত্রে জানাযায়,৬৭.৫শ মেট্রিক টন জি আর চাউল বরাদ্দ পান। এর মধ্যে ২৫ মেট্রিকটন অবরাদ্দকৃত রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সঞ্জীব চক্রবর্তী বলেন, সাতাকানিয়ার জন্য ৭১ মেট্রিকটন জি আর চাউল এবং ২ লক্ষ ৮৬ হাজর নগদ টাকা। লোহাগাড়ার জন্য ৬৭.৫শ মেট্রিকটন জি আর চাউল এবং ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাতকানিয়ায় করোনাভাইরাস অাক্রান্তে রোগীর মৃত্যু ও শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। লোহাগাড়া পাশের উপজেলা হওয়ায় তাও লকডাউন ঘোষণা করেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যে এই দম্পতি কোন মতেই নিজেদের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অভ্যস্ত নয়। হরহামেশেই খোঁজখবর নিচ্ছেন এলাকাবাসীর। পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন সহযোগীতা। সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও তাঁর পত্নী রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে গলা মিলিয়ে বলতে চাই, ইনশাআল্লাহ্‌ আধার একদিন কেটে যাবে। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে প্রধানমন্ত্রীর সকল সাহসী পদক্ষেপ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারের বরাদ্দ নয় ছয় অতীতে করার সুযোগ দিই নাই। এখনতো প্রশ্নও আসতে পারেনা। নিম্ন ও মধ্য বিত্ত দেখে সরকারি ও নিজস্ব ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের জবাবে বলেন, নিজদের বরাদ্দ নিয়ে কখনো প্রচার করি নাই এবং করতে চাইনা। আপনারা মাঠে খবর নিলে জানতে পারবেন। তাঁরা আরো বলেন, এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাওয়ার অনুরোধ জানান। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে টানা দুইবার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন মাতৃতুল্যা মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাতকানিয়া -লোহাগাড়ার জনসাধারণ দেখিয়েছেন তাদের ভালবাসা। তাদের ভোটে টানা দুই বার সাংসদ করেছেন। এই ঈর্ষা সহ্য করতে না পেরে কতিপয় অপরাজনীতি ধারক বাহক তারা মাঝে মধ্যে অপপ্রচার চালাই। এতে আমাদের কিছু যায় আসেনা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ্‌।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সকল প্রস্তুতি আছে। খাদ্যের কোন ঘাটতি নেই। আগামী ২১ তারিখ থেকে আবার ত্রাণ দেওয়া হবে।

Print Friendly and PDF